
ভেনেজুয়েলা যুদ্ধ আসলে তেল নিয়ে নয়, আবার ডলার আয়ের বা আমেরিকার সম্পদশালী হওয়ার বাসনা থেকেও নয় বরং এটা ডলারকে বাঁচানোর যুদ্ধ। প্রথম শুনে হয়তো একটু অবাক লাগবে, কিন্তু মনোযোগ দিয়ে শেষ পর্যন্ত পড়ুন খেলাটা ঘুরে যাবে। এখানে এমন কিছু ইন্টারেস্টিং ফ্যাক্ট আছে যা কখনো মিডিয়া কিংবস সংবাদমাধ্যমে শুনবেন না।
খবরে আপনি শুধু তেলের গল্প শুনেছেন—কে কতটা তেল নিয়ন্ত্রণ করছে, কোন দেশ কত ব্যারেল উৎপাদন করছে। কিন্তু আসল গল্পটা তেল বা সিলভার নিয়ে নয়। আসল গল্পটা ডলার নিয়ে।
একটু ভাবুন তো—যখনই আমেরিকা কোনো দেশে সামরিক হস্তক্ষেপ করে, তখন আমরা শুনি তারা গণতন্ত্র রক্ষা করছে, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করছে, মাদক ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। সুন্দর, উচ্চ নৈতিক কারণ। কিন্তু যদি বলি, এসব আড়ালে আসল কারণ একটাই “অর্থ”,কিন্তু অর্থ আয় করা না বরং এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ অর্থের মান বিশেষ করে, ডলারের আধিপত্য রক্ষা করা।
আর যদি আরও স্পষ্ট করে বলতে গেলে, ভেনেজুয়েলা সংকট এর কারণ তারা “আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলার ব্যবহার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল” অবাক লাগছে? ডলার ব্যবহার না করলে নাই এর জন্য সমস্যা কি??
এখন এমন কিছু তথ্য তুলে ধরব, তা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে আমার আপনার সম্পদ এমনকি আপনার বিটকয়েন পোর্টফোলিওকেও কীভাবে কন্ট্রোল করছে, সেটা বুঝতে পারবেন।

১. শুধু তেল নয়, মুদ্রাই আসল ক্ষমতা
অনেকেই বিশ্বাস করেন যে আধুনিক যুদ্ধগুলো তেলের জন্য হয়। এবং এতে সত্যতা আছে তেল মানে শক্তি, তেল মানে অর্থনীতি, তেল মানে ক্ষমতা। কিন্তু এটা সত্যের মাত্র অর্ধেক।
আসল ক্ষমতা নিহিত তেলে নয়, বরং কোন মুদ্রায় সেই তেল বিক্রি হচ্ছে। এই একটি বিষয়ই নির্ধারণ করে কোন দেশ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে কতটা প্রভাবশালী হবে। এবং এখান থেকেই জন্ম নেয় পেট্রো-ডলার সিস্টেম একটি অদৃশ্য কিন্তু অত্যন্ত শক্তিশালী কাঠামো।
যদি আপনি এই একটি মূল ধারণা বুঝতে পারেন, তাহলে ভেনেজুয়েলা, ইরাক, লিবিয়া, ইরান প্রতিটি ঘটনার পেছনে একই প্যাটার্ন স্পষ্ট হয়ে উঠবে। আর তখন বুঝবেন কেন কিছু দেশ হস্তক্ষেপের শিকার হয় আর কিছু দেশ হয় না।

২. পেট্রো-ডলার: অদৃশ্য সাম্রাজ্যের ভিত্তি
একটু ইতিহাসের পাতা উল্টানো যাক।
১৯৭০-এর দশকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর আমেরিকার অর্থনীতি বড় ধাক্কা খায়। ডলারের মান কমে যাচ্ছিল, মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছিল, আর্থিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে। এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার একটি প্রতিভাবান কিন্তু সূক্ষ্ম পদক্ষেপ নেন সৌদি আরবের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি।
চুক্তিটা ছিল এইরকম:
প্রথম শর্ত:সৌদি আরব তাদের সমস্ত তেল শুধুমাত্র মার্কিন ডলারে বিক্রি করবে।
দ্বিতীয় শর্ত: বিনিময়ে আমেরিকা সৌদি আরবকে সামরিক সুরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করবে।
এর ফলে এক রাতেই পালটে গেল বৈশ্বিক অর্থনীতির গতিপথ। এখন থেকে বিশ্বের যে কোনো দেশকে তেল কিনতে হলে প্রথমে ডলার সংগ্রহ করতে হবে। ডলার হয়ে উঠল আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অপরিহার্য মাধ্যম একটি কৃত্রিম কিন্তু বাধ্যতামূলক চাহিদা তৈরি হলো। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের থেকে চুরি করা আইডিয়া 😁
পেট্রো-ডলারের এই ক্ষমতা বলেই আমেরিকা প্রতি বছর ট্রিলিয়ন ডলার বাজেট ঘাটতি নিয়েও টিকে থাকতে পারে। বিশ্বের প্রায় প্রতিটি মহাদেশে সামরিক ঘাঁটি রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারে। অন্য যে কোনো দেশের তুলনায় কম সুদে ঋণ নিতে পারে
পেট্রো-ডলার = একটি অঘোষিত কিন্তু বাস্তব অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য।
৩. আসুন দেখি, যখন কোনো দেশ এই ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করার সাহস দেখিয়েছে, তখন কী ঘটেছে।
ইরাক: প্রথম সতর্কবার্তা
২০০০ সাল: সাদ্দাম হুসেইন একটি ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন “আমরা এখন থেকে তেল ইউরোতে বিক্রি করব, ডলারে নয়।
২০০৩ সাল: ঠিক তিন বছর পরে, “গণহংসার অস্ত্র” (WMD) খোঁজার নামে ইরাক আক্রমণ করা হয়। সেই অস্ত্র কখনো পাওয়া যায়নি—পরবর্তীতে স্বীকার করা হয় সেগুলো ছিল না। কিন্তু ইন্টারেস্টিং বিষয় হলো, যুদ্ধ-পরবর্তী ইরাকি তেল আবার ডলারে বিক্রি হতে শুরু করে।
দ্বিতীয় উদাহরণ লিবিয়া
২০০৯ সাল:মুয়াম্মার গাদ্দাফি একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। “আমরা স্বর্ণ-সমর্থিত আফ্রিকান মুদ্রা চালু করব” (Gold Dinar), যা আফ্রিকার তেল বাণিজ্যে ব্যবহৃত হবে।
২০১১ সাল: মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে পুরোনো সিলেবাসের চোখ বন্ধ করা স্ক্রিপ্টে ন্যাটো লিবিয়ায় সামরিক অভিযান চালায়। গাদ্দাফি নিহত হন। আজ লিবিয়া একটি বিভক্ত, বিধ্বস্ত রাষ্ট্র যেখানে স্থিতিশীলতা এখনো ফিরে আসেনি।
প্যাটার্ন: ডলারকে চ্যালেঞ্জ → আন্তর্জাতিক চাপ → রেজিম চেঞ্জ → ডলার ফিরে আসে।
৪. ভেনেজুয়েলা: সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ
এখন আসি ভেনেজুয়েলার গল্পে, যা হয়তো এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
ভেনেজুয়েলার অবস্থান: তেলের প্রমাণিত মজুদ: ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল। বিশ্বে সর্বাধিক, এমনকি সৌদি আরবের চেয়েও বেশি ভৌগোলিকভাবে আমেরিকার দক্ষিণ প্রতিবেশী ও ল্যাটিন আমেরিকার অন্যতম প্রভাবশালী দেশ।
২০১৮ সাল: ডলারকে বিদায় করে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো একটি বড় ঘোষণা দেন: “আমরা এখন থেকে ডলারের বাইরে তেল বিক্রি করব। চীনা ইয়ুয়ান, ইউরো, রুশ রুবেল সবই গ্রহণযোগ্য হবে।”
এটি শুধু একটি বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত ছিল না এটি ছিল পেট্রো-ডলার সিস্টেমের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা।
( এর জন্যই যেকোন সিধান্ত নেওয়ার আগে রাজনৈতিক পরামর্শকদের সাথে আলোচনা করে ভূত ভবিষ্যত একটু বুঝে কাজ করার পরামর্শ দেই)
পরিণতি: সেই পুরোনো পুথি আবারও একই: তীব্র অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা, বিরোধী দলকে সমর্থন ও স্বীকৃতি রেজিম চেঞ্জের একাধিক প্রচেষ্টা।
এমনকি ট্রাম্প নিজের নোবেল পুরস্কারটা পর্যন্ত বিরোধী দলের একজনকে দিয়ে দেন।
যদি কোনো দেশ ডলারকে চ্যালেঞ্জ করে, তাহলে প্রতিক্রিয়া আসবেই চাপ, নিষেধাজ্ঞা, মিডিয়া আক্রমণ, এবং শেষ পর্যন্ত সরকার পরিবর্তনের প্রচেষ্টা। এটাই নিয়ম।
৫. পেট্রো-ডলার ব্যবস্থার বর্তমান সংকট, রাশিয়া ও চীন: দুই দেশই এখন বড় অংশের বাণিজ্য নিজস্ব মুদ্রায় সম্পন্ন করছে, ডলার বাদ দিয়ে। সৌদি আরব: যে দেশ পেট্রো-ডলারের ভিত্তি তৈরি করেছিল, সেই সৌদি আরবই এখন চীনের সাথে ইয়ুয়ানে তেল বিক্রয়ের আলোচনা করছে। তবে ইহা একখানা বড় ভূমিকম্পের সমান ঘটনা।
ব্রিকস জোট (ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা): নিজস্ব পেমেন্ট সিস্টেম ও মুদ্রা তৈরির পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে। ইরান, তুরস্ক, ভারত বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে বিকল্প মুদ্রায় তেল ও অন্যান্য পণ্য কেনাবেচা শুরু করেছে। এই মুদ্রাব্যবস্থার বিস্তারিত জানতে চাইলে কমেন্ট করবেন, পরের ভ্লগে দেওয়ার চেষ্টা করব।
বিশ্ব এখন একটি বহু-মেরুকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, এর জন্য স্বাভাবিক ভাবেই ডলারের একচেটিয়া আধিপত্য চ্যালেঞ্জের মুখে।
৬. চীনের কৌশলগত পদক্ষেপ: সিলভার ও তেল
এখানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা যোগ হয়েছে চীনা সংযোগ। চীন ভেনেজুয়েলার বৃহত্তম তেল ক্রেতাদের একটি। অর্থনৈতিক সংকটের সময়েও চীন ভেনেজুয়েলার সাথে বাণিজ্য বজায় রেখেছে। কারণ ভেনেজুয়েলায় বিশাল সিলভার মজুদ আছে। চীন এই সিলভার সাপ্লাই চেইন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে প্রায় তার অন্যতম কারণ সিলভার আধুনিক প্রযুক্তি (সোলার প্যানেল, ইলেকট্রনিক্স, ব্যাটারি) তৈরিতে অপরিহার্য। আর চীন আমেরিকার অন্যতম শত্রু হিসাবে পরিচিত। আর সেই চীনেই ডলার ছাড়া লেনদেন শুরু করেছিল।
সবকিছু মিলিয়ে বৈশ্বিক কিছু ঠিক নেই ছোট বড় অনেক কারণ মিলিয়ে একটা বড় পরিবর্তন আসছে। বিনিয়োগকারীরা ফিয়াট মুদ্রা ব্যবস্থায় ফিরে যেতে চাচ্ছে, যেমন সোনা বা বিটকয়েন।
এই ভূরাজনৈতিক দাবা খেলা শুধু খবরের শিরোনাম নয় বরং এটি সরাসরি আমার আপনার পকেট কে প্রভাবিত করছে।
– আপনি যে মুদ্রায় বেতন পান
– যেখানে আপনার সঞ্চয় রাখেন
– আপনার ক্রয়ক্ষমতা
– আপনার ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা
এই সবকিছুই এখন সিস্টেমিক চাপের মধ্যে আছে।
একটা বিষয়ে একটি ছোট সতর্কসংকেত: যখন দেখবেন, মুদ্রার মান হঠাৎ কমে যাচ্ছে, মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে, সরকার মুদ্রানীতিতে জোরপূর্বক পরিবর্তন আনছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন মুদ্রা ব্যবহৃত হচ্ছে। তখন বুঝবেন পুরনো সিস্টেম ক্র্যাক করা শুরু হয়েছে। আর যারা এই পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত নয়, তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
৮. হার্ড অ্যাসেট বিপদের বন্ধু যখন বৈশ্বিক মুদ্রা ব্যবস্থা অস্থির হয়, তখন কিছু সম্পদ তাদের মূল্য ধরে রাখে এমনকি বাড়ায়। এগুলোকে বলা হয় হার্ড অ্যাসেট বা কঠিন সম্পদ।
সোনা (Gold) চিরকালের মূল্যের ভাণ্ডার। হাজার বছরের ইতিহাস জুড়ে এটি তার মূল্য বজায় রেখেছে, এবং কোনো সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক সোনার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। নতুন সোনা তৈরি করা যায় না, এবং এর উৎপাদনে প্রচুর শক্তি ও খরচ লাগে এই কারণে এটি “সাউন্ড মানি” হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো, যেমন চীন, রাশিয়া ও ভারত, তাদের ডলার সম্পদ কমিয়ে সোনা মজুদ বাড়াচ্ছে।
বিটকয়েন (Bitcoin) ডিজিটাল যুগের স্বর্ণ। এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো সীমিত সরবরাহ মোট ২১ মিলিয়ন বিটকয়েনই কখনও তৈরি হবে। এটি বিকেন্দ্রীভূত, কোনো সরকার, ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে নয়। ইন্টারনেটের মাধ্যমে যেকোনো জায়গায় যেকোনো পরিমাণ সহজে পাঠানো যায়। বিটকয়েন তৈরি করতে প্রচুর শক্তি ও বিনিয়োগ প্রয়োজন, তাই এটিও “সাউন্ড মানি” হিসেবে গণ্য। এছাড়া, এটি ভূরাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ; যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা বা সীমান্ত বন্ধ হলেও বিটকয়েন কাজ করে। ব্যবহারকারী সহজেই মোবাইল বা হার্ডওয়্যার ওয়ালেটে রাখার মাধ্যমে কোনো তৃতীয় পক্ষের অনুমতি ছাড়াই সম্পদ নিরাপদ রাখতে পারেন।
সিলভার (Silver) শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ ধাতু। এটি সোলার প্যানেল, ইলেকট্রনিক্স ও মেডিকেল যন্ত্রপাতিতে ব্যবহৃত হয়। সোনার তুলনায় এটি সাশ্রয়ী এবং বর্তমানে সরবরাহ সংকট তৈরি হচ্ছে, যার বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে চীন।
হার্ড অ্যাসেট কেন লাভ জনক কারণ, ফিয়াট মুদ্রা, যেমন টাকা, সরকার ইচ্ছামতো ছাপাতে পারে, যার ফলে এর মূল্য কমতে পারে। অন্যদিকে হার্ড অ্যাসেট সীমিত সরবরাহ ও তৈরিতে প্রচুর খরচের কারণে মূল্য ধরে রাখে। যখন বৈশ্বিক মুদ্রা যুদ্ধ চলছে, হার্ড অ্যাসেট আপনার অর্থনৈতিক বীমা হিসেবে কাজ করে।
তবে বাস্তবতা হলো হার্ড এসেট কিংবা ডিজিটাল মার্কেটপ্লেস নিয়ে আমেরিকার কাজও চলমান তাই বলা যায় সিস্টেম বা মুদ্রার পরিবর্তন হলেও ক্ষমতার হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত নয়।
বিদ্র: বাংলাদেশ সরকার বিটকয়েন বৈধতা দেয়নি তাই কেউ অতি উৎসাহী হয়ে বিটকয়েন এর স্পাম এ পা না দেওয়ার পরামর্শ থাকবে।